← Back to All Contributors
অম

অমর মিত্র

5 Published Works

Author · Contributor

অমর মিত্র গল্পকার, ঔপন্যাসিক। ১৯৭৪ সালে একাল পত্রিকায় ‘মেলার দিকে ঘর’ গল্প লিখে পাঠক মহলে সাড়া জাগান। তারপর থেকে দীর্ঘ চার দশক ধরে তিনি গল্প-উপন্যাস রচনা করে যাচ্ছেন। তার বিভিন্ন আখ্যান নিয়ে নাটক মঞ্চস্থ হয়েছে। গল্প-উপন্যাসের জন্য সাহিত্য অকাদেমি, বঙ্কিম, সমরেশ বসু, যুগশঙ্খসহ ভারত ও পশ্চিমবঙ্গের একাধিক সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক পুরস্কার পেয়েছেন। প্রকাশিত একাধিক গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে গল্পগ্রন্থ মাঠ ভাঙে কালপুরুষ (১৯৭৮); উপন্যাস মোমেনশাহী উপাখ্যান (২০১৯)।

Published Works

article Premium

পৃথিবীর পাঠশালায়

যে সময়ে আমি ১৭-১৮, সেই সময়ে পশ্চিমবঙ্গে নকশালবাড়ির গণ অভুত্থান হয়ে। গেছে। আমার বন্ধুরা কেউ কেউ ঘর ছেড়েছে। সোভিয়েত রাশিয়াকে তখন সোভিয়েত সাম্রাজ্যবাদ নামে যথেচ্ছ গালাগালি দেওয়া হত। দেওয়ালে দেওয়ালে লেখা হত চীনের চেয়ারম্যান আমাদের চেয়ারম্যান। কত সব স্লোগান লেখা হত, উচ্চারিত হত। একটি ছিল আমার খুব পছন্দের, গ্রামে ‘গ্রামে ডাক পাঠাও, জোট বাঁধো তৈরি হও।’ সেই ১৭ থেকে ২২-২৩ বছর বয়স ছিল ভয়ের সময়। পুলিশি সন্ত্রাস নেমে এসেছিল সেই সব বিপ্লবীদের শেষ করে দিতে। দুই প্রতিভাবান কবি, বিপ্লবী কবি তিমিরবরণ সিংহ এবং দ্রোণাচার্য ঘোষের মৃত্যু হয়েছিল পুলিশের হাতেই। জেলখানায়। সরোজ দত্তের নিহত হওয়ার কথা নতুন করে বলার নয়।

article Premium

জীবন এক মহাভারত

জীবন এক মহাভারত। এই মহাভারতের যতটুকু মনে আছে, তার চেয়ে বেশি যে ভুলে গেছি। জীবন এক অনিশ্চিত ভ্রমণ, কোথা থেকে মানুষ যে যায় কোথায়? আমার স্বপ্ন ছিল অধ্যাপনা করব। স্বপ্নভঙ্গ হতে দেরি হয়নি। রাজাবাজার বিজ্ঞান কলেজে এক আলোচনাচক্রে আমি ও শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায় আমন্ত্রিত হয়েছিলাম। আমি সূচনায় বললাম, একদিন এই ভবনের নিচ থেকে বিমর্ষ মুখে বাড়ি ফিরেছিলাম। চান্স পাইনি। ৪৮ পারসেন্ট পেলে কি এমএসসি-র কোনও এক শাখায় পড়তে পারা যায়? তারপর বর্ধমান, কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ে চেষ্টা। তাঁদের নিজেদের অধীনস্থ কলেজের বাইরের ছাত্রদের তেমন সুযোগ নেই। বিশ্ববিদ্যালয় এখন অনেক। পড়ার সুযোগ এখন অনেক। আমার হয়নি তখন। তাতে শেষ অবধি মন্দ কিছু হয়নি, কিছু একটা হয়েছে। শুধু অধ্যাপক হতে পারলাম না। কিন্তু সেই সব বিশ্ববিদ্যালয়ে আমন্ত্রিত হয়ে গিয়েছি তো। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেছি। সুতরাং যা হতে চেয়েছিলাম তা যেমন হয়নি, হয়েছেও। যা হওয়া খুব কঠিন সেই রাস্তায় নিজের মতো করে চলতে পেরেছি। লেখকের জীবন কঠিন জীবন। বড়ো পত্রিকা নিয়েছে, নেয়নি। সবচেয়ে কঠিন সময় হলো, টের পাওয়া, লেখাটি হয়তো ঠিকঠাক হয়নি। মনে হয় হয়নি। আবার মনে হয়, আমি একই লেখা লিখছি। আগের লেখাকে